সাগরের মাঝে একলা আমি – নীল জলের অচেনা যাত্রা
"সাগরের মাঝে একলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, ঢেউয়ের শব্দ, নীল আকাশ আর একাকীত্বের শান্তি নিয়ে লেখা একটি ভ্রমণ গল্প।"
ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো নিজের সাথে সময় কাটানো। অনেকেই বলে একা ভ্রমণ মানেই ভয়, কিন্তু আমার কাছে একা ভ্রমণ মানে মুক্তি। সেই মুক্তির খোঁজেই একদিন আমি নেমে পড়েছিলাম সাগরের পথে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ঘাট থেকে একটি ছোট নৌকায় উঠে যাত্রা শুরু করলাম গভীর নীল সাগরের দিকে।
সেদিন আকাশে ছিল হালকা মেঘ, বাতাস ছিল বেশ জোরে। ঢেউগুলো নৌকাকে দোলাচ্ছিলো ঠিক দোলনার মতো। একা বসে আমি শুনছিলাম ঢেউয়ের শব্দ, যা যেন মনে হচ্ছিল আমার হৃদস্পন্দনের সাথে তাল মিলিয়ে বাজছে। চারপাশে শুধু জল আর জল। দূরে কোথাও একটা সাদা পাখি ভেসে চলেছে বাতাসে, যেন সেও একা আমার সঙ্গী।
প্রথমে ভেবেছিলাম ভয় লাগবে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ভয় নয় বরং এক অদ্ভুত শান্তি নেমে এলো মনে। মনে হচ্ছিল, শহরের সমস্ত কোলাহল, মানুষের ভিড়, দায়িত্ব– সব ফেলে এসেছি অনেক দূরে। শুধু আমি আর এই বিশাল নীল সাগর।
নৌকার মাঝি মাঝে মাঝে কিছু গল্প করছিলো। বললো, রাতে মাঝ সাগরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন হাত বাড়ালেই ধরা যায়। আমি তার চোখের স্বপ্ন দেখতে পেলাম।
একসময় আমি চোখ বন্ধ করলাম। ঢেউয়ের শব্দ, বাতাসের স্পর্শ আর নৌকার কাঁপুনির সাথে মিলেমিশে মনে হচ্ছিল আমি যেন অন্য এক জগতে চলে গেছি। একা হয়েও এতটা সম্পূর্ণ অনুভূতি হয়তো আগে কখনো পাইনি।
একটু পরে মাঝি আমাকে নিয়ে গেলো এক অচেনা চরে। সেখানে বালুর উপর দাঁড়িয়ে আমি দেখছিলাম সাগরের বিশালতা। কোথাও কোনো শব্দ নেই, শুধু ঢেউ আর বাতাস। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীতে আমি একাই আছি।
সেই মুহূর্তে বুঝলাম, ভ্রমণ শুধু জায়গা বদল নয়, বরং নিজের সাথে নতুন করে দেখা হওয়া। সাগরের মাঝে একা দাঁড়িয়ে আমি যেন নিজেকে নতুন করে চিনলাম।
সেদিনের সেই ভ্রমণ আমার মনে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। যখনই শহরের ব্যস্ততায় হাঁপিয়ে উঠি, মনে মনে ফিরে যাই সেই সাগরের কাছে।
Nice
ReplyDelete