শিরোনাম:
এক ভ্রমণকারীর জার্নাল: সাগর, পাহাড় আর অজানা জীবন
গল্পঃ
নগরের কংক্রিট দেয়াল আর ক্লান্তিকর জীবন থেকে বেরিয়ে পড়া হয়েছিল হঠাৎ। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া, শুধুই একটা ব্যাকপ্যাক আর অদম্য কৌতূহল নিয়ে। গন্তব্য? একটি উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকা — যেখানে প্রকৃতি এখনও নিজের নিয়মে চলে, আর মানুষ এখনও গল্পে বাঁচে।
বাস থেমে গেল এক মাটির রাস্তার মোড়ে। সেখান থেকে পাহাড়ি পথ, হেঁটে চলতে হলো কয়েক ঘণ্টা। পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া ছোট ছোট ঝরনা, ডানায় ঝাপটানো পাখিরা, আর দূরের সবুজ পাহাড় যেন নতুন কোনো জগতে নিয়ে যাচ্ছিল।
সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে পৌঁছানো গেল এক ছোট্ট উপজাতি গ্রামে। ঘরগুলো বাঁশ আর কাঠে তৈরি, ছাদে খড়। গ্রামবাসীরা কৌতূহলী চোখে তাকায়, কিন্তু মুখে ছিল আন্তরিকতার ছাপ।
এক বৃদ্ধা এক গ্লাস ধোঁয়া ওঠা ভাতের ফেন এনে দিলেন — সঙ্গে পাহাড়ি লবণ আর গরম শুকনা মাছ। মুখে তুলে প্রথম কামড়েই বোঝা গেল — এখানকার রান্না শুধু খাবার নয়, এটা সংস্কৃতি।
রাতে আগুন জ্বালিয়ে গ্রামের যুবক-যুবতীরা গান গাইলো তাদের ভাষায়। কোনো শব্দ বুঝা যাচ্ছিল না, কিন্তু হৃদয়ে লাগছিল যেন বহু পুরনো এক গল্প শুনছি। রাতটা কাটলো বাঁশের মাচায় শুয়ে, মাথার ওপরে হাজারো তারা।
পরদিন পাহাড় বেয়ে উঠে দেখা গেল সেই স্বপ্নের নীল সাগর। এত কাছ থেকে কখনো দেখা হয়নি এমন বিস্তৃত জলরাশি — যেখানে আকাশ আর সাগর মিশে গেছে এক রঙে। বাতাস ছিল ভারী, কিন্তু শান্ত।
কিন্তু মনটা তখন অন্যদিকে। মনে পড়ে গেল সেই ব্যস্ত নগরের দিনগুলো — একঘেয়ে জীবন, দমবন্ধ করা শিডিউল, আর মানসিক অবসাদ। মনে হলো, এই জায়গা হয়তো মুক্তির একটা রূপ।
ফেরার সময় গ্রামের এক বালিকা একটা ছোট্ট কাঠের পুতুল দিয়ে বলল, “ভুলে যেয়ো না আমাদের।”
হাঁটার পথে পেছনে তাকিয়ে মনে হলো — কখন যেন একটা টুকরো হৃদয় রেখে গেলাম সেখানে🏞️🏞️🏞️
Comments
Post a Comment