🌊 সাগরের মাঝে একলা আমি
📍 স্থান: কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত
✍️ লেখক: তিথি
সকালবেলা ঢাকার কোলাহল ছেড়ে আমি যখন কুয়াকাটার পথে রওনা দিলাম, মনে একরাশ ভয় আর উত্তেজনা। জীবনে প্রথমবার সম্পূর্ণ একা একটি ভ্রমণে বের হয়েছি — কেউ সঙ্গে নেই, শুধু আমি আর আমার ছোট্ট একটা ব্যাকপ্যাক।
বাসের জানালার পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছিল গ্রামবাংলার ছবি — সবুজ ধানক্ষেত, সরু রাস্তা আর দূরে কোথাও বৃষ্টিভেজা গাছের নিচে দাঁড়ানো একটি শিশু। হঠাৎ মনে হলো, এইসব আমি কখনো ভালো করে দেখেছি কি?
কুয়াকাটায় পৌঁছে যখন সাগরের গর্জন শুনতে পেলাম, তখন শরীরের প্রতিটি স্নায়ু যেন জেগে উঠল। বুকভরে নিঃশ্বাস নিলাম — লবণাক্ত হাওয়ায় ভরে গেল আমার মন। সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়ছে, আমি হাঁটছি সমুদ্রের ধারে, একা।
প্রথমবার একা হোটেলে চেক-ইন, নিজের খাবার নিজে খোঁজা — সবই ছিল ভয়ের মতো, আবার নতুনত্বের মতোও। এক সন্ধ্যায় সৈকতের ধারে বসে আমি লিখছিলাম আমার ডায়েরিতে, হঠাৎ এক মহিলা এসে বললেন, “তুমি একা এসেছো?” আমি হেসে বললাম, “হ্যাঁ, একলা।”
তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, “ভালো করেছো। মেয়েদের এমন সাহসী হওয়া দরকার। কেউ আমাদের জন্য অপেক্ষা করে না — তাই নিজেই চলা শুরু করতে হয়।”
এই কথাগুলো যেন আমার বুকের ভেতর বাজতে থাকল সারারাত। সাগরের ঢেউয়ের শব্দ, অচেনা জায়গা আর অজানা মানুষ — সব মিলিয়ে এক অসম্ভব সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াল।
আমি হাঁটছিলাম সকালে সূর্যোদয় দেখতে, একা। কিন্তু একা অনুভব করিনি। যেন এই প্রকৃতি আমাকে আগলে রেখেছে — যেমন মা তার সন্তানকে আগলে রাখে।
আমি দেখলাম জেলেরা মাছ ধরছে, শিশু ছুটে চলেছে জলের ধারে, এক বৃদ্ধা নারকেল পাতায় পাখা বানাচ্ছেন — জীবন এখানে সহজ, কিন্তু গভীর।
এক সন্ধ্যায়, আমি বসে আছি সাগরের ধারে, পায়ের নিচে নোনাজল। হঠাৎ মনে হলো — এটাই তো আমার “নিজের সাথে দেখা হওয়া”। এতদিন আমি শুধু নিজের নাম জানতাম, আজ আমি নিজের সাহস, কষ্ট, ভালোবাসা সবটাই অনুভব করলাম।
✨ কিছু কথা…
> “একলা ভ্রমণ মানেই একাকীত্ব নয় –
এটা নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগানোর এক অসাধারণ উপায়।”
এই ভ্রমণ আমাকে শিখিয়েছে, ভয় পেলে চলবে না। জীবন অপেক্ষা করে না — আমাদেরই সাহস করে এগিয়ে যেতে হয়। আজ আমি ফিরে এসেছি, কিন্তু মনটা এখনো কুয়াকাটার সাগরের ধারে।
Comments
Post a Comment