Skip to main content

উপজাতি গ্রামে এক রাত



🏞️ উপজাতি গ্রামে এক রাত

📍 স্থান: বান্দরবানের পাহাড়ি গ্রাম
✍️ লেখক: তিথি


🌺




চারদিক ঘন সবুজ, মাথার ওপর নীল আকাশ, আর মাঝখানে আমি — এক অচেনা পাহাড়ি গ্রামে।
এ যেন এক সিনেমার দৃশ্য, কিন্তু এটা ছিল আমার জীবনের বাস্তব গল্প।

আমার যাত্রা শুরু হয় বান্দরবান থেকে। ঝিরিপথ পেরিয়ে, ছোট একটা জীপে করে উঠে এলাম এক বম উপজাতির গ্রামে। চারপাশে ছোট কুঁড়েঘর, বাঁশের সাঁকো, আর পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে এক ঝর্ণা। আমি এক রাত থাকার অনুমতি পেয়েছিলাম ওদের সঙ্গে।


🌿
গ্রামের বাচ্চারা দৌড়ে এসে আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে গেল — কেউ বাংলায় কথা বলতে পারে না, তবুও চোখের চাহনিতে যেন অনেক কিছু বলা।
এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে আমার রাতটা কাটবে। তার মুখে বলিরেখা, হাতে মেহগনির চুড়ি। তিনি হাতে এক থালা গরম ভাত আর পাহাড়ি মাংস দিয়ে বললেন,
👉 "নেয়া, খাইখা লোইন।"
আমি হাসলাম, খেয়ে ফেললাম সবকিছু — কোনো মশলা নেই, কিন্তু এত মায়া, এত আন্তরিকতা!


🔥
রাতে আগুন জ্বালিয়ে বসে গল্প হচ্ছিল — ভাষা ছিল ভেঙে-ভেঙে, কিন্তু অনুভূতি ছিল সম্পূর্ণ। তারা বলল,
"আমরা এখানে পাহাড় ভালোবাসি, মাটি ভালোবাসি, আর অতিথিকে দেবতা মনে করি।"

আমি ভাবছিলাম — আমরা যারা শহরে থাকি, তারা তো দিনের শেষে এই আন্তরিকতা ভুলে যাই।


🌙
রাতটা ছিল নিরব, শুধু মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূরের ঝর্ণার শব্দ।
কথা ছিল, ভোরবেলায় সবাই মিলে সূর্য ওঠা দেখতে পাহাড়ের চূড়ায় যাবো।

আমি সেই বৃদ্ধা মহিলার ছোট ঘরে মাদুর পেতে ঘুমালাম। ঘরজোড়া বাঁশের গন্ধ, বাইরে ঠান্ডা হাওয়া। কিন্তু আমার মন অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গিয়েছিল।


🌄
ভোরবেলা সূর্য ওঠার সময় পুরো আকাশ যেন আগুনে পুড়ে গেল — কমলা, লাল, হলুদ — এক অলৌকিক দৃশ্য।
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম পাহাড়ের চূড়ায়, আর গ্রামবাসীরা একে অপরের হাত ধরে বলছিল,
👉 "সূর্য নতুন জীবন আনে।"

আমি চোখ বুজে অনুভব করলাম —
হ্যাঁ, আমি সত্যিই নতুন কিছু শিখে নিচ্ছি… এক রাত, এক জীবন।


💬 অনুভবের কয়েকটি লাইন:

🌸 “বড় শহর বড় মন দেয় না,
ছোট গ্রাম ছোট ঘরেও দেয় বিশাল হৃদয়।”

🌿 “ভাষা না বুঝলেও ভালোবাসা ঠিক বোঝা যায় –
চোখে চোখে, আচরণে, আর এক থালা খাবারে।”


আমি তিথি।
এই এক রাত আমাকে শিখিয়েছে — জীবন কেবল রাস্তায় নয়, সম্পর্কেও গঠিত।


এখন আমি এই গল্পের জন্য একটি ছবি তৈরি করছি — উপজাতি গ্রামে একটি মেয়েকে রাতে বাঁশের ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, পেছনে জ্বলা আগুন।
ছবিটি নিচেই আসছে। ⏬

✍️ লেখক: তিথি


🌺
চারদিক ঘন সবুজ, মাথার ওপর নীল আকাশ, আর মাঝখানে আমি — এক অচেনা পাহাড়ি গ্রামে।
এ যেন এক সিনেমার দৃশ্য, কিন্তু এটা ছিল আমার জীবনের বাস্তব গল্প।

আমার যাত্রা শুরু হয় বান্দরবান থেকে। ঝিরিপথ পেরিয়ে, ছোট একটা জীপে করে উঠে এলাম এক বম উপজাতির গ্রামে। চারপাশে ছোট কুঁড়েঘর, বাঁশের সাঁকো, আর পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে এক ঝর্ণা। আমি এক রাত থাকার অনুমতি পেয়েছিলাম ওদের সঙ্গে।


🌿
গ্রামের বাচ্চারা দৌড়ে এসে আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে গেল — কেউ বাংলায় কথা বলতে পারে না, তবুও চোখের চাহনিতে যেন অনেক কিছু বলা।
এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে আমার রাতটা কাটবে। তার মুখে বলিরেখা, হাতে মেহগনির চুড়ি। তিনি হাতে এক থালা গরম ভাত আর পাহাড়ি মাংস দিয়ে বললেন,
👉 "নেয়া, খাইখা লোইন।"
আমি হাসলাম, খেয়ে ফেললাম সবকিছু — কোনো মশলা নেই, কিন্তু এত মায়া, এত আন্তরিকতা!


🔥
রাতে আগুন জ্বালিয়ে বসে গল্প হচ্ছিল — ভাষা ছিল ভেঙে-ভেঙে, কিন্তু অনুভূতি ছিল সম্পূর্ণ। তারা বলল,
"আমরা এখানে পাহাড় ভালোবাসি, মাটি ভালোবাসি, আর অতিথিকে দেবতা মনে করি।"

আমি ভাবছিলাম — আমরা যারা শহরে থাকি, তারা তো দিনের শেষে এই আন্তরিকতা ভুলে যাই।


🌙
রাতটা ছিল নিরব, শুধু মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূরের ঝর্ণার শব্দ।
কথা ছিল, ভোরবেলায় সবাই মিলে সূর্য ওঠা দেখতে পাহাড়ের চূড়ায় যাবো।

আমি সেই বৃদ্ধা মহিলার ছোট ঘরে মাদুর পেতে ঘুমালাম। ঘরজোড়া বাঁশের গন্ধ, বাইরে ঠান্ডা হাওয়া। কিন্তু আমার মন অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গিয়েছিল।


🌄
ভোরবেলা সূর্য ওঠার সময় পুরো আকাশ যেন আগুনে পুড়ে গেল — কমলা, লাল, হলুদ — এক অলৌকিক দৃশ্য।
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম পাহাড়ের চূড়ায়, আর গ্রামবাসীরা একে অপরের হাত ধরে বলছিল,
👉 "সূর্য নতুন জীবন আনে।"

আমি চোখ বুজে অনুভব করলাম —
হ্যাঁ, আমি সত্যিই নতুন কিছু শিখে নিচ্ছি… এক রাত, এক জীবন।


💬 অনুভবের কয়েকটি লাইন:

🌸 “বড় শহর বড় মন দেয় না,
ছোট গ্রাম ছোট ঘরেও দেয় বিশাল হৃদয়।”

🌿 “ভাষা না বুঝলেও ভালোবাসা ঠিক বোঝা যায় –
চোখে চোখে, আচরণে, আর এক থালা খাবারে।”


আমি তিথি।
এই এক রাত আমাকে শিখিয়েছে — জীবন কেবল রাস্তায় নয়, সম্পর্কেও.

Comments

Popular posts from this blog

সাগরের মাঝে একলা আমি – নীল জলের অচেনা যাত্রা

 সাগরের মাঝে একলা আমি – নীল জলের অচেনা যাত্রা "সাগরের মাঝে একলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, ঢেউয়ের শব্দ, নীল আকাশ আর একাকীত্বের শান্তি নিয়ে লেখা একটি ভ্রমণ গল্প।" ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো নিজের সাথে সময় কাটানো। অনেকেই বলে একা ভ্রমণ মানেই ভয়, কিন্তু আমার কাছে একা ভ্রমণ মানে মুক্তি। সেই মুক্তির খোঁজেই একদিন আমি নেমে পড়েছিলাম সাগরের পথে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ঘাট থেকে একটি ছোট নৌকায় উঠে যাত্রা শুরু করলাম গভীর নীল সাগরের দিকে। সেদিন আকাশে ছিল হালকা মেঘ, বাতাস ছিল বেশ জোরে। ঢেউগুলো নৌকাকে দোলাচ্ছিলো ঠিক দোলনার মতো। একা বসে আমি শুনছিলাম ঢেউয়ের শব্দ, যা যেন মনে হচ্ছিল আমার হৃদস্পন্দনের সাথে তাল মিলিয়ে বাজছে। চারপাশে শুধু জল আর জল। দূরে কোথাও একটা সাদা পাখি ভেসে চলেছে বাতাসে, যেন সেও একা আমার সঙ্গী। প্রথমে ভেবেছিলাম ভয় লাগবে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ভয় নয় বরং এক অদ্ভুত শান্তি নেমে এলো মনে। মনে হচ্ছিল, শহরের সমস্ত কোলাহল, মানুষের ভিড়, দায়িত্ব– সব ফেলে এসেছি অনেক দূরে। শুধু আমি আর এই বিশাল নীল সাগর। নৌকার মাঝি মাঝে মাঝে কিছু গল্প করছিলো। বললো, রাতে মাঝ সাগরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো ...

বৃষ্টি, আমার একান্ত আপন"

 📖 গল্পের নাম: "বৃষ্টি, আমার একান্ত আপন" জানালার ধারে বসে তিথি। তার সামনে ছড়িয়ে রয়েছে শহরের ধূসর দৃশ্যপট — গাছপালা, ট্রাফিকের শব্দ আর সেই চিরচেনা বৃষ্টির ধারা। বৃষ্টি পড়ছে নিরবধি, যেন নিঃশব্দ কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে তার মনের ভেতরের অশ্রুত কথার সাথে। সে জানালার কাচে হাত রাখে। ঠান্ডা কাচের ওপাশে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে — একটার পর একটা। তার চোখ বন্ধ, কানে হেডফোন — বাজছে তার প্রিয় গান। কিন্তু সুরের নিচে চাপা পড়ে আছে তার দীর্ঘশ্বাস। একসময় এই বৃষ্টি ছিল তার প্রিয় সঙ্গী। ছোটবেলায় বৃষ্টি মানেই ছিল আনন্দ, খেলা, ছুটে যাওয়া — নাচা ভেজা পায়ে স্কুলের গেট পর্যন্ত দৌড়ে যাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। তিথি সবসময় চেয়েছিল বর্ষায় সমুদ্র দেখতে। একদিন সে ভাবত, এক কাপ চা হাতে, সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখবে — সেই ছায়া-মাখানো প্রেমের মুহূর্ত। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সাধারণ চাকরি, ক্লান্ত দুপুর, ট্রাফিক জ্যাম আর একঘেয়ে জীবন তিথির স্বপ্নগুলোকে ধীরে ধীরে পিষে ফেলেছে। দিন শেষে সে শুধু জানালার পাশে বসে গান শোনে, আর ভাবে, “আমি আর কখনো কি ভিজবো? আমি আর কখনো কি কোথাও যাবো?” মা...

🌧️ তাংগুয়ার হাওরের অপূর্ণ স্বপ্ন

 🌧️ তাংগুয়ার হাওরের অপূর্ণ স্বপ্ন "একজন মেয়ের স্বপ্ন ছিল তাংগুয়ার হাওরের বৃষ্টিভেজা সৌন্দর্য দেখা। কিন্তু জীবনের টানাপোড়েন আর আর্থিক কষ্টে তা পূরণ হয়নি। এই আবেগঘন ভ্রমণকাহিনিতে লুকিয়ে আছে অপূর্ণ স্বপ্ন, আশা আর জীবনের সত , স্বপ্নের এক বিশাল ক্যানভাস। বর্ষাকালে যখন চারপাশে নীল পাহাড়, দুলতে থাকা নৌকা আর টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, তখন মনে হয় যেন পৃথিবীর সবচেয়ে শান্ত জায়গা এটা। তিথি ছোটবেলা থেকেই বইয়ে পড়েছে তাংগুয়ার হাওরের কথা। মনে মনে ভেবেছিল, একদিন নৌকায় বসে বর্ষার দিনে এই হাওরে ঘুরবে। জলের ভেতর সূর্যের আলো দেখবে, আকাশে ভাসমান মেঘের ছবি আঁকবে মনে। কিন্তু বাস্তবের জীবন তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়। তিথির বিয়ে হয়েছিল কম বয়সে। সংসারটা খুব সহজ ছিল না। স্বামী মানসিকভাবে স্থির ছিলেন না, ছোটখাটো বিষয়েও রাগ হতো। তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হতো প্রতিদিন। আর্থিক দিক থেকেও সবসময় টানাপোড়েন চলত। চারপাশের মানুষ যখন ঘুরতে যেত, ছবি দিত সোশ্যাল মিডিয়ায়, তখন তিথির বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠত। "আমি কি কোনোদিন পারব সেখানে যেতে?" কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর নীরব থেকেছে সবসময়। একদিন ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে তিথি দ...