ট্রেনে করে পাহাড়ি সফর🚆🚆🚆
ভোরের আলো ফুটতেই ছোট্ট রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। হাতে ব্যাকপ্যাক, চোখেমুখে ভ্রমণের উত্তেজনা। আজকের গন্তব্য পাহাড়ি শহর—যেখানে যাব শুধুই ট্রেনের পথে। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে যখন ট্রেনটি আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্মে ঢুকল, মনে হল যেন একটা লম্বা লোহার সাপ ঢুকে পড়েছে জীবনের গল্পে।
ট্রেনের জানালার পাশে বসতেই শুরু হলো নতুন দৃশ্যপটের পর্দা। প্রথমে শহরের কোলাহল, দোকানের ভিড়, তারপর ধীরে ধীরে সব ফিকে হয়ে এল। সবুজ ধানের ক্ষেত, মাঝে মাঝে ছোট নদী, দূরে দাঁড়ানো তালগাছ—সব যেন একেকটা আঁকা ছবি। ট্রেনের সিটি বাজতে বাজতে যখন পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে ঢুকতে লাগল, দৃশ্যটা বদলে গেল সম্পূর্ণ।
পাহাড়ের গা বেয়ে ছুটে চলা ট্রেন যেন একেবারে রূপকথার পথে নিয়ে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে ট্রেন টানেলের ভেতর ঢুকছিল, আর অন্ধকারের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসার পর দেখা যাচ্ছিল মেঘের আস্তর। মনে হচ্ছিল, আমি যেন আকাশের গায়ে বসে আছি। পাহাড়ের ছোট ছোট গ্রামগুলো দেখা যাচ্ছিল জানালা দিয়ে—লাল টালির ছাদ, সবুজ চা-বাগান, বাচ্চাদের খেলা।
ট্রেনের ভেতরও ছিল আলাদা এক গল্প। পাশে বসা যাত্রী আমার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করল। সে জানাল, এই রুটে ভ্রমণ করলে মানুষ পাহাড়ি জীবনের সঙ্গে মিশে যায়। যাত্রাপথে বিক্রেতারা আসছিল চা, মুড়ি, পেঁয়াজু নিয়ে। গরম গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জানালার বাইরের দৃশ্য দেখা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।
যাত্রার শেষে যখন স্টেশনে নামলাম, পাহাড়ি বাতাস আমাকে একেবারে অন্য জগতে নিয়ে গেল। মনে হলো এই ভ্রমণ শুধু ট্রেনে চড়া নয়, বরং প্রকৃতির বুকে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা সঞ্চয়।
Comments
Post a Comment