পাহাড়ের বুকে নীল আকাশ – বান্দরবানে আমার এক অবিস্মরণীয়
বান্দরবান ভ্রমণের হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা। পাহাড়, ঝরনা আর গ্রামীণ জীবনের গল্পে ভরা আবেগঘন ভ্রমণ কাহিনি।
প্রকৃতির ডাক সবসময়ই আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। শহরের কোলাহল, দমবন্ধ করা যানজট আর একঘেয়েমি জীবন থেকে পালাতে আমার মন সবসময় পাহাড়ের দিকে ছুটে যায়। তাই এক সকালে হঠাৎ ঠিক করলাম—এবার যাওয়া হবে বান্দরবান।
বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখছিলাম দূরের অচেনা গ্রাম, পথের ধুলো আর পাহাড়ের ক্রমশ উঁচু হয়ে ওঠা শরীর। মনে হচ্ছিল প্রতিটা বাঁক যেন আমাকে নতুন কোনো গল্প শোনাচ্ছে।
বান্দরবানে পৌঁছে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ল, সেটা হলো সবুজে মোড়া পাহাড়ের অন্তহীন সারি। পাহাড়গুলো যেন আকাশকে ছুঁতে চায়, আর আকাশও মায়া ভরে সেগুলোকে বুকে টেনে নেয়। নীলগিরির চূড়ায় দাঁড়িয়ে যখন মেঘগুলোকে হাতের নাগালে পেলাম, মনে হলো আমি আর বাস্তবে নেই—আমি যেন কোনো স্বপ্নরাজ্যে হারিয়ে গেছি।
তারপর যাত্রা শুরু হলো নাফাখুম ঝরনার পথে। পাথুরে পথ, পাহাড়ি নদীর টলমলে পানি আর ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময় পৌঁছে গেলাম ঝরনার সামনে। ঝরনার গর্জন যেন পাহাড়ের বুক ফুঁড়ে বের হয়ে আসা জীবনের সুর। আমি দাঁড়িয়ে শুনছিলাম সেই শব্দ—যেন প্রকৃতি আমাকে বলছে, “তুমি একা নও, আমি আছি।”
রাতটা কাটালাম এক পাহাড়ি গ্রামে। ঘরে বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই—কিন্তু আকাশভরা অসংখ্য তারা যেন অন্ধকারের সব শূন্যতা পূর্ণ করে দিলো। গ্রামের ছোট্ট বাচ্চারা হাসিমুখে দৌড়ে এসে আমাকে ফুল দিলো। তাদের চোখে ছিলো এক অদ্ভুত সরলতা, যা শহরে কোনোদিন খুঁজে পাইনি।
সেই রাতে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম। মনে হচ্ছিল, আমি কত কিছু চাই জীবনে—টাকা, সাফল্য, নাম—but এই পাহাড়ি মানুষগুলো কত অল্পতেই সুখী। হয়তো সুখ মানে বেশি কিছু পাওয়া নয়, বরং যেটুকু আছে তার ভেতরেই শান্তি খুঁজে নেওয়া।
এই বান্দরবান ভ্রমণ আমাকে শুধু পাহাড় আর ঝরনা দেখায়নি, বরং শিখিয়েছে—জীবন আসলে খুব ছোট, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে ভালোবাসা দিয়ে বাঁচতে হয়। শহরে ফিরে এলেও সেই তারাভরা রাত, ঝরনার সুর আর পাহাড়ি মানুষের হাসি আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
Comments
Post a Comment