🌿 নীরবতার যাত্রা: এক ভ্রমণ যেখানে শব্দ নয়, কথা বলে নীরবতা 🌿পাহাড়ি নির্জন রাস্তা, চারপাশে সবুজ
নীরবতার ভ্রমণ কেমন হতে পারে? পাহাড়, নদী আর নির্জন পথে নিজের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের অনন্য গল্প পড়ুন।
ভ্রমণ মানেই আমরা সাধারণত কল্পনা করি ভিড়ভাট্টা, কোলাহল, মানুষের হাসাহাসি, বা পর্যটনকেন্দ্রের ব্যস্ততা। কিন্তু একদিন হঠাৎ মনে হলো—যদি ভ্রমণ হয় একেবারে উল্টো? যদি কোনো জায়গায় গিয়ে শুধু নীরবতা শোনা যায়?
এই ভাবনা নিয়েই আমি বেরিয়ে পড়লাম এক পাহাড়ি গ্রামে। শহর থেকে অনেক দূরে, যেখানে মোবাইলের সিগনাল দুর্বল, রাস্তার আলো নেই, আর রাত নামলেই অন্ধকারে জোনাকি জ্বলে ওঠে।
পথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বুঝতে পারলাম, এই যাত্রার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে নীরবতায়। পাহাড়ের গা বেয়ে যখন বাতাস বয়ে যাচ্ছিল, তখন সেই শব্দটিও আর কোলাহল মনে হচ্ছিল না—বরং মনে হচ্ছিল প্রকৃতির নিঃশব্দ সঙ্গীত।
রাতের আকাশে অসংখ্য তারা, চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর মাঝে মাঝে দূরে কুকুরের ডাকে পুরো গ্রাম যেন আরো গভীর নীরব হয়ে উঠছিল। এ নীরবতাই যেন ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
পরের দিন ভোরে যখন সূর্যের আলো পাহাড়ের গায়ে পড়ল, আমি বসে ছিলাম এক পাথরের ওপর। কোনো মানুষ নেই, কোনো আওয়াজ নেই—শুধু নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ। তখন হঠাৎ মনে হলো, ভ্রমণ মানে শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, ভ্রমণ মানে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়া।
সেই নীরবতার মাঝে আমি যেন নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলাম। শহরের জীবনে যেখানে প্রতিদিন শুধু শব্দ, ভিড় আর দৌড়ঝাঁপ, সেখানে এই ছোট্ট গ্রামে নীরবতা আমাকে শিখিয়েছে থামতে, শুনতে, আর অনুভব করতে।
ভ্রমণ শেষে ফিরে আসার পরও সেই নীরবতার স্মৃতি আমার ভেতরে বেঁচে আছে। এখনো চোখ বন্ধ করলে আমি শুনতে পাই পাহাড়ি বাতাসের ফিসফিসানি, নদীর ধীর স্রোতের শব্দ, আর আকাশ ভরা তারাদের নীরব গল্প।
Comments
Post a Comment